গোবিন্দদাসের কড়চা সম্পর্কে যা জানো লেখ।
গোবিন্দদাসের কড়চা
সংস্কৃত ভাষায় রচিত মুরারি গুপ্ত কিম্বা স্বরূপ দামোদরের কড়চার মতো চৈতন্যদেবের দাক্ষিণাত্য ভ্রমণের সঙ্গী গোবিন্দদাসের কড়চা চৈতন্যজীবনের নানা ঘটনায় মৃদ্ধ রোজনামচা। তবে গ্রন্থটির প্রামাণিকতা সম্বন্ধে সুকুমার সেন ও বিমানবিহারী মজুমদার প্রমুখ সমালোচকগণ প্রশ্ন তুলেছেন। শান্তিপুরের ভক্ত বৈষ্ণব জয়গোপাল গোস্বামী গোবিন্দদাস কর্মকারের কড়চার পুঁথি এবং তারই সম্পাদনায় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে পুস্তকাকারে তা প্রকাশিত হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও দীনেশচন্দ্র সেন ও বনোয়ারীলাল গোস্বামীর সম্পাদনায় দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
১৫০৮ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের কাঞ্চননগরে কবির জন্ম। তাঁর পিতার নাম শ্যামদাস কর্মকার। স্ত্রীকর্তৃক ‘মুখ’, ‘নিগুণ’ প্রভৃতি দুর্বাক্যে তিরস্কৃত হয়ে তিনি অভিমানে গৃহত্যাগী হন ও সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।
দীনেশচন্দ্র সেন গোবিন্দদাসের বর্ণিত চৈতন্যচরিত সম্বন্ধে লিখেছেন— “উৎকৃষ্ট শিল্পী কৰ্ম্মকার বহুমূল্য মণিখচিত স্বর্ণময় দেববিগ্রহ নিৰ্মাণ করিলে যতদুর সুন্দর হইতে পারে, গোবিন্দ কর্মকারের লেখনী নির্মিত চৈতন্যমূৰ্ত্তি তাহা হইতেও সুন্দর হইয়াছে।”
গোবিন্দদাসের কড়চায় কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য। যেমন—চৈতন্যের অসাম্প্রদায়িক মনোভাব, প্রকৃতি বর্ণনা, দাক্ষিণাত্য ভ্রমণের বর্ণনা প্রভৃতি।
Leave a Reply